| বঙ্গাব্দ

গণভবনে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 3935123 বার পঠিত
গণভবনে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ |
ছবির ক্যাপশন: ড. ইউনূস ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ |

গণভবনে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসন ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের জীবন্ত দলিল

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের চিত্র সংরক্ষণে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গণভবনে জাদুঘরের অগ্রগতি ঘুরে দেখার সময় তাঁর সঙ্গে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক উপস্থিতিতে ইতিহাস পরিদর্শন

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা গণভবনে পৌঁছালে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এছাড়া সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাদুঘরে যা আছে: আয়নাঘর থেকে শেখ হাসিনার পলায়ন

জাদুঘর পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, দমন-পীড়ন এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে:

  • শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, স্মৃতিচিহ্ন ও ব্যক্তিগত চিঠিপত্র।

  • অভ্যুত্থানের সময়কার আলোকচিত্র, সংবাদপত্রের কাটিং এবং অডিও-ভিডিও দলিল।

  • আয়নাঘরের প্রতিলিপি: যেখানে দর্শনার্থীরা কয়েক ঘণ্টা সময় কাটিয়ে বন্দীদের ওপর চলা নৃশংসতা অনুভব করতে পারবেন।

  • ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার গণভবন থেকে পলায়নের ঘটনার বিশেষ প্রদর্শনী।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য: বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত

পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, "এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, যা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। জাতি যদি কখনো দিশেহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে তারা সঠিক পথ খুঁজে পাবে।" তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিক ও শিক্ষার্থীকে দলবেঁধে এই জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান যাতে আগামী প্রজন্ম নৃশংসতার ইতিহাস ভুলে না যায়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মোড়েই সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয়।

২০২৫ সালে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ ধরে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই জাদুঘরের উদ্বোধনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। ১৯০০ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বারবার প্রমাণ হয়েছে যে, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে যারা বুলেটে স্তব্ধ করতে চেয়েছে, তাদের চূড়ান্ত পরিণতি হয়েছে অপমানজনক বিদায়। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি ভবন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করা এবং এতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। অধ্যাপক ইউনূস যে ‘আয়নাঘরে’ সময় কাটানোর আহ্বান জানিয়েছেন, তা মূলত মানুষের মানবাধিকার চেতনাকে জাগ্রত করার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রয়াস। এটি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ভোটারদের জুলাইয়ের চেতনা মনে করিয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।


সূত্র: যুগান্তর, বাসস (BSS), প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর গণভবন পরিদর্শন প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency